ধারা টিভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর হাফিজুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সাংবাদিক পরিচয়ে গিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গতকাল জোহরের নামাজের পর হঠাৎ মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে জানান। তবে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিষয় জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানানো হয়নি বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে মাদ্রাসার অফিসে প্রবেশ করেন। তাদের বসতে দেওয়া হলে মুহতামিম জানতে চান, ‘কী খেদমত করতে পারি?’ এ সময় তারা মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার কথা জানান। পরে মাদ্রাসার সভাপতি, সেক্রেটারি ও কোষাধ্যক্ষ কে এবং তাদের আয়ের উৎস কী—এমন বিভিন্ন প্রশ্ন করেন তারা।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা গাড়িচালক মুহতামিম সাহেবকে অফিসের বাইরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে ব্যক্তিগতভাবে তিনি ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন বলে দাবি করা হয়েছে। তার ভাষ্য ছিল—সাংবাদিকরা ‘অনেক বড়’ ও ‘ভয়ংকর’; টাকা না দিলে ‘প্রবলেমে’ পড়তে হতে পারে।
এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে মুহতামিম মাদ্রাসার সভাপতির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন এবং ফোনটি উপস্থিত সাংবাদিকদের একজনের হাতে তুলে দেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সভাপতি সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন এবং কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তারা মাদ্রাসা থেকে চলে যান।
এ সময় সাংবাদিকদের একজন একটি ভিজিটিং কার্ড রেখে যান। কার্ডে নাম উল্লেখ ছিল আরিফুল ইসলাম ফারহান, প্রতিদিনের কাগজের প্রতিনিধি। এছাড়া তাদের সঙ্গে এশিয়ান টিভির বুম দেখা গেছে বলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই জরুরি
সাংবাদিক পরিচয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অভিযোগের কথা বলা হলে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিষয় জানানো, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে অর্থ দাবির অভিযোগ সত্য কি না, সেটিও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে যদি ঘটনার ভিডিও, অডিও, কল রেকর্ড বা অন্য কোনো প্রমাণ থাকে, সেগুলো সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও যাচাইয়ের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে সাংবাদিকদের কাছেও প্রত্যাশা—কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা এবং পেশাগত নীতিমালা মেনে দায়িত্ব পালন করা।
ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
আবু সুফিয়ান বাবু, স্টাফ রিপোর্টার:

0 মন্তব্যসমূহ