👨🦱 ধারা টিভি নিউজ প্রতিবেদন
🔰প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ
সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ছয়জন প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে ৯৮ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে নার্গিস আক্তার (৩৬) নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার এলাকায় কৃষি ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক নার্গিস আক্তার উপজেলার মৃগালী গ্রামের খোকন আলীর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে নার্গিস আক্তার তাদের সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে দ্রুত কার্ডের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন—এমন আশ্বাস দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে রাবেয়া খাতুন নামে একজন ১৮ হাজার টাকা এবং অপর পাঁচজন ১৬ হাজার টাকা করে দেন। সব মিলিয়ে নার্গিসের হাতে ৯৮ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে দাবি তাদের।
টাকা নেওয়ার পর প্রায় দেড় মাস ধরে ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন অজুহাতে সময় দিতে থাকেন নার্গিস। একপর্যায়ে কার্ড না পাওয়ায় তারা টাকা ফেরত চাইলে নতুন করে আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর ভুক্তভোগীরা কৌশলে বাকি ৪ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নার্গিসকে মঙ্গলবার দুপুরে রায়েরবাজারে ডেকে আনেন। তিনি সেখানে পৌঁছালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা হলেন—নান্দাইল উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের দোরুয়া গ্রামের হোসনে আরা বেগম (৩২), রাবেয়া খাতুন (৫০), জোসনা খাতুন (৩০), আছিয়া খাতুন (৫৬), তন্নী আক্তার লিমা (৩৫) ও কনক মিয়া (৩৬)।
ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুনের দাবি, আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রভাব দেখিয়ে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন নার্গিস। তবে শেষ পর্যন্ত কার্ড না পাওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়।
এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি সোমবার তার নজরে আসে। তাদের নাম ব্যবহার করে নার্গিস সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন জানতে পেরে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে তাকে টাকা দেওয়ার কথা বলে আঠারবাড়ীতে ডেকে আনা হয়। পরে পুলিশে খবর দিয়ে তাকে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নার্গিস আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে প্রথমে রায়েরবাজার তদন্তকেন্দ্রে নেয়। পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে নার্গিস আক্তারকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
✍️ প্রতিবেদক:
ধারা টিভি ডেস্ক রিপোর্ট:

0 মন্তব্যসমূহ