👨🦱 ধারা টিভি নিউজ প্রতিবেদন
🔰প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
ঈদের দিন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরবঙ্গের বর্ষীয়ান রাজনীতিক আলহাজ দবিরুল ইসলাম আর নেই। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বালিয়াডাঙ্গীর বড়বাড়ি গ্রাম থেকে রাজনৈতিক উত্থান
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র মাধ্যমে। পরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি পান।
টানা ৭ বার এমপি নির্বাচিত হওয়ার বিরল রেকর্ড
দবিরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে টানা পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হয়ে বিরল রাজনৈতিক রেকর্ড গড়েন।
গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিতে দায়িত্ব পালন
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তাঁর দায়িত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি চা শিল্পেও অবদান
রাজনীতির বাইরে উত্তরবঙ্গে চা চাষ সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখেন দবিরুল ইসলাম। তাঁর মালিকানাধীন ‘রণবাগ ইসলামী টি এস্টেট’ এলাকায় একটি পরিচিত চা বাগান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে তাঁর এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
মামলা, কারাবন্দী জীবন ও শেষ সময়
২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। তাঁর পরিবর্তে ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। পরে ৩ অক্টোবর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান তিনি। অসুস্থতার কারণে পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
✍️ প্রতিবেদক:
আবু সুফিয়ান বাবু,স্টাফ রিপোর্টার:

0 মন্তব্যসমূহ