🔰প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
প্রায় ১১ বছর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রধান আসামি আব্দুল মমিন (৪১)কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং সেই অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আব্দুল মমিনকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মমিন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী এলাকার মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামানিকের ছেলে।
রায়ে আদালত নির্দেশ দেন, অর্থদণ্ডের পুরো অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। প্রয়োজনে দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী এলাকায় নিজ বাড়িতে একা থাকা ১৪ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের সময় তার মা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে অভিযুক্ত পালিয়ে গেলে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
একই মামলার অপর আসামি এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
রায়ের পর ভুক্তভোগীর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনতাজুল ইসলাম বলেন, এ রায় সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ভুক্তভোগীর পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
✍️ প্রতিবেদক:
আবু সুফিয়ান বাবু, স্টাফ রিপোর্টার:

0 মন্তব্যসমূহ