Ticker

6/recent/ticker-posts

গুজবে ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল কিনতে হুড়োহুড়ি, কয়েক ঘণ্টায় খালি পাম্প

👨‍🦱 ধারা টিভি নিউজ প্রতিবেদন

🔰প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ‎



সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে হঠাৎ করে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা দিয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল থেকে জেলার বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। সন্ধ্যার পর বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেক মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করতে দেখা যায়।


চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রাত ৮টার মধ্যেই জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের মজুত সাময়িকভাবে শেষ হয়ে যায়। তবে ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে তেল কিনতে আসায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।


ঠাকুরগাঁওয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিক্রি স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও অস্বাভাবিক ভিড় বা সংকটের খবর পাওয়া যায়নি।


স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলের পর ফেসবুকে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন পাম্পে তেল সংকটের আশঙ্কা নিয়ে নানা পোস্ট, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি কিনতে পাম্পে ছুটে যান অনেকে।


সরেজমিনে ঠাকুরগাঁও শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি পাম্পের ভেতর থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অনেক গ্রাহককে জ্বালানি নিতে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনে তেল নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে পড়েন।


মোটরসাইকেলচালক আরিফ বলেন, ‘ফেসবুকে জ্বালানি সংকটের কথা শুনে তেল নিতে এসেছি। সামনে যদি সংকট দেখা দেয়, তখন যেন সমস্যায় পড়তে না হয়—সেই চিন্তা থেকেই আগেভাগে তেল নিয়ে রাখছি।’


আরেক গাড়িচালক বলেন, ‘ফেসবুকে বিভিন্ন জায়গায় তেল সংকটের খবর দেখেছি। তাই পরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়াতে এখনই তেল সংগ্রহ করতে এসেছি।’


ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, নিয়মিতভাবেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক ঘণ্টায় কয়েকগুণ বেশি গ্রাহক একসঙ্গে তেল কিনতে আসায় কিছু স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের মজুত শেষ হয়ে যায়। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় নতুন চালান এলে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানান তারা।


ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, জেলায় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কোনো তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের ভিত্তিতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়েছে।


ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ‘জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। কেউ গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

✍️ প্রতিবেদক:

আবু সুফিয়ান বাবু, স্টাফ রিপোর্টার:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

📍 কার্যক্রম: বাংলাদেশ

ইমেইল: dharatvnews@gmail.com

হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৩৪৩২৫৮৯৮৮