ধারা টিভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে মো. আল আমিন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর থানার ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আল আমিন রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। র্যাব-১৩ রংপুরের সদর কোম্পানি ও র্যাব-১-এর সিপিএসসি, গাজীপুরের সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করেন।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী বাবার বাড়িতে গোসল করতে গেলে মামলার অপর আসামি জনি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে সেখানে প্রবেশ করে। পরে ওই নারী বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় আল আমিন তাকে গলা ধরে আবার বাথরুমের ভেতরে নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় জনি ওই নারীর ভিডিও ধারণ করে এবং তাকে ধর্ষণ করে। পরে আল আমিনও তাকে ধর্ষণ করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, ঘটনার ভিডিও সংরক্ষণ করার পাশাপাশি আসামিরা সেটি অন্যত্র স্থানান্তর করে। পরবর্তীতে ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্যও চাপ দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট অপর আসামি মাহবুব আলম ভিডিওটি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান।
এরপর গত ২০ আগস্ট রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলাটির নম্বর ২৮।
মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের অবস্থান শনাক্তে র্যাব-১৩-এর গোয়েন্দা দল নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আল আমিনের গাজীপুরে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পরে শুক্রবার রাতে ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আল আমিনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদক:
আবু সুফিয়ান বাবু, স্টাফ রিপোর্টার:

0 মন্তব্যসমূহ