🔰প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ
আর কত নিষ্ঠুরতা দেখবে এই সমাজ? আর কত মায়ের বুক খালি হলে আমাদের বিবেক জাগ্রত হবে? একজন বাবার আদরের কন্যা, যার হাত ধরে স্বপ্নের সংসার গড়ার কথা ছিল, সেই মেয়েটিই আজ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল অসহনীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে। যে মুখে হাসি থাকার কথা ছিল, সেই মুখ আজ চিরতরে নিস্তব্ধ। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৩নং আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের বেজীডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ দেলোয়ার শেখের মেয়ে মোছাঃ রুপা খাতুন আর বেঁচে নেই। স্বামী ও শাশুড়ির নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, রুপার শ্বশুরবাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার ছোটারকান্দি গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের শিকার ছিলেন তিনি। সর্বশেষ তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হাত-পা এবং ঘাড়ের হাড় পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়। নির্যাতনের ভয়াবহতায় তার শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে রুপার গলায় রশি বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের বহু হাড় ভেঙে গেছে এবং অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে লড়তেই অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান রুপা খাতুন।
একজন মেয়ের জীবনের স্বপ্ন, তার হাসি, তার ভবিষ্যৎ—সবকিছুই যেন নির্মম নির্যাতনের কাছে হার মেনে গেল। আজ বেজীডাঙ্গা গ্রামের আকাশ ভারী স্বজনদের কান্নায়। একজন বাবার বুক খালি হয়ে গেছে, একটি পরিবার হারিয়েছে তাদের আদরের মেয়েকে।
এ ঘটনায় কাশিয়ানি থানা পুলিশ, প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি পরিবারের জোর দাবি—ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
রুপা খাতুনের মৃত্যু যেন আরেকটি পরিসংখ্যান হয়ে না থাকে। তার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক—এটাই আজ স্বজনদের একমাত্র আর্তনাদ।
✍️ প্রতিবেদক:
যাকারিয়া আহমাদ খুবায়েবী
ধরা টিভি নিউজ

0 মন্তব্যসমূহ