👨🦱 ধারা টিভি নিউজ প্রতিবেদন
🔰প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ
আজ পবিত্র আশুরা, ইসলামি বর্ষপঞ্জির মহররম মাসের ১০ তারিখ। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে ইবাদত, আত্মসমালোচনা ও ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। একই সঙ্গে কারবালার মর্মস্পর্শী ঘটনা স্মরণ করার দিনও বটে।ইসলামের ইতিহাসে ৬১ হিজরির এই দিনে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন ইবনে আলী এবং তাঁর অল্পসংখ্যক সঙ্গী সত্য, ন্যায় ও দ্বীনের আদর্শ রক্ষায় শাহাদাত বরণ করেন। তাঁদের আত্মত্যাগ মুসলিম ইতিহাসে ধৈর্য, ন্যায়পরায়ণতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
"তোমরা আল্লাহর পথে যারা নিহত হয়েছে, তাদের মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত। কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না।"
— সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৫৪
আরও ইরশাদ হয়েছে—
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সৎকর্ম এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন; আর অশ্লীলতা, অন্যায় ও জুলুম থেকে নিষেধ করেন।"
— সূরা আন-নাহল, আয়াত ৯০
হাদিসে আশুরার দিনের বিশেষ মর্যাদার কথাও এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) আশুরার দিনে রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(সহিহ আল-বুখারি: ২০০৪; সহিহ মুসলিম: ১১৩০)
অন্য এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন—
"আমি আশা করি, আশুরার দিনের রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করবেন।"
— সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কারবালার ঘটনা কোনো রাজনৈতিক ইতিহাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সত্যের পক্ষে অবিচল থাকা, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের এক চিরন্তন শিক্ষা।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহ মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন কারবালার সকল শহীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে সত্য, ন্যায়, ইনসাফ ও তাকওয়ার পথে চলার তাওফিক দান করেন।
আমিন।
✍️ প্রতিবেদক:
ধারা টিভি নিউজ, ডেক্স রিপোর্ট:


0 মন্তব্যসমূহ