Ticker

6/recent/ticker-posts

স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে যুবকের আত্মহত্যা: মাগুরায় শোকের ছায়া

👨‍🦱 ধারা টিভি নিউজ প্রতিবেদন

🔰প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ



প্রেমের সম্পর্ক থেকে শুরু হয়েছিল সংসার। ছিল একসঙ্গে সুখী ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন, অভিমান ও মানসিক যন্ত্রণার কাছে হার মেনে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যা করেছেন জিহাদ হোসেন (১৮) নামে এক যুবক।


রোববার (৭ জুন) সকালে মাগুরা শহরের স্টেডিয়ামপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে জিহাদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জিহাদ হোসেন মাগুরা সদর উপজেলার কুঁচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুরিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।



পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সূত্রে ঝালকাঠি জেলার মীম খাতুনের সঙ্গে জিহাদের পরিচয় হয়। পরে পারিবারিক সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। শুরুতে সম্পর্ক ভালো থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ ও দূরত্ব তৈরি হতে থাকে।

ঈদ ও বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে বিরোধ।


স্বজনরা জানান, আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। জিহাদ স্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ঈদের নামাজ শেষে তিনি নিজেই তাকে বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। তবে এই নিয়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে স্ত্রী মীম খাতুন জিহাদকে না জানিয়েই বাবার বাড়ি চলে যান।


জিহাদের চাচী লিমা খাতুন বলেন, "আমার ভাতিজা তার স্ত্রীকে অনেকবার ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছে। বারবার ফোন করেছে, বোঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এতে সে খুব ভেঙে পড়েছিল।"


নিহতের ছোট বোন অপর্ণা জানান, "ভাই অনেকবার ভাবিকে ফিরে আসতে বলেছে। কিন্তু তিনি আসবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন। এই কষ্ট ও অভিমান থেকেই ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। আমরা কখনও ভাবিনি সে এমন চরম কোনো সিদ্ধান্ত নেবে।"



পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার গভীর রাতে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন জিহাদ। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ভিডিও কলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। পরে সকালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেন।


খবর পেয়ে মাগুরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, "ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই, একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় জিহাদের মরদেহ রয়েছে। তখনও তার মোবাইল ফোনে ভিডিও কল চালু ছিল। আমরা ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেছি।"


মাগুরা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় পুরো স্টেডিয়ামপাড়া এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক বিরোধ ও তরুণদের মানসিক চাপের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সময়মতো সমাধান না করার কারণেই এই ভয়াবহ পরিণতি ঘটেছে।

✍️ প্রতিবেদক:

জিল্লুর রহমান সাগর,মাগুরা প্রতিনিধি:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

📍 কার্যক্রম: বাংলাদেশ

ইমেইল: dharatvnews@gmail.com

হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৩৪৩২৫৮৯৮৮