🔰প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র এবং খুলনা বিভাগের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’-এর দখল ও ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা নিয়ে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নোটিশ ঝুলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার সেলুনের পরিবারের নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চিঠি এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (জয়েন্ট স্টক) নথিপত্রের বরাত দিয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রেজারার মো. আলীম উদ্দিন লস্কর ও আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার দাবি করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার ও বুধবার ওই পক্ষের লোকজন ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। এ সময় রেজিস্ট্রারের কক্ষসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরে অবশ্য সেসব তালা খুলে দেওয়া হয়।
আলীম উদ্দিন লস্করপন্থী পক্ষের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০১৪ সালে মূল আইনগত ভিত্তি ছাড়াই নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এর মাধ্যমে সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার সেলুনের পরিবারের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তাদের দাবি, পরবর্তীতে জয়েন্ট স্টকের সংশ্লিষ্ট নথি ও অনুমোদনের ভিত্তিতে ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে মো. আলীম উদ্দিন লস্করকে চেয়ারম্যান, আব্দুর রাজ্জাককে সেক্রেটারি এবং তানভীর হুদাকে ট্রেজারার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। ফলে বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হস্তান্তরে কোনো আইনগত বাধা থাকার কথা নয় বলেও দাবি করছে পক্ষটি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে। ইউজিসি ও সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ, নতুন পদ সৃষ্টি এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ।
অভিযোগগুলোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অননুমোদিত ফি আদায়ের অভিযোগও করেছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অপর পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দ্দার শান্তর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধান, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
✍️ প্রতিবেদক:
মো. মিনারুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:

0 মন্তব্যসমূহ