👨🦱 ধারা টিভি নিউজ প্রতিবেদন
🔰প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে নিয়োগের প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে পৌর শহরের বাহিরগোলা জামে মসজিদ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে যায়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মূল ফটকেও তালা লাগিয়ে দেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল—‘অবৈধ নিয়োগ মানি না, মানবো না’, ‘লীগের দোসর ইউএনওকে অপসারণ কর, করতে হবে’, ‘সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণ চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নতুন করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দিতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া হলে প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই শুরুতেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিবাদ সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ, সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া নিপন, যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন পপেল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মতিয়ার রহমান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালিউজ্জামান মন্ডল রিয়েলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকায় পুরো কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্তের পাশাপাশি তাদের অপসারণের দাবি জানান।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নিরপেক্ষতার বাইরে গিয়ে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের ‘এজেন্ডা’ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তাদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
তারা বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি পাইলট প্রকল্প। অথচ যারা একসময় এই প্রকল্পকে ‘ফাইজলামি কার্ড’ বলে তাচ্ছিল্য করেছেন, তারাই এখন নিয়োগ পেয়েছেন। এ ধরনের বিতর্কিত নিয়োগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগ দিতে হবে।’
বিক্ষোভকারীরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
অনিয়মের অভিযোগ নাকচ ইউএনওর
তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি।
তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। বরং যোগ্য প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। ছয়টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং বোর্ডগুলোই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।’
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তারা আমাকে জানাতে পারতেন। তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেত।’
তবে ইউএনও ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
✍️ প্রতিবেদক:
হাবিবুল্লাহ্ সরকার, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:


0 মন্তব্যসমূহ