👨🦱 ধারা টিভি নিউজ প্রতিবেদন
🔰প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। স্বল্প খরচ, সহজ প্রক্রিয়া এবং দ্রুত নিষ্পত্তির কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে এই বিচারব্যবস্থার ওপর।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে মনোহরপুর ইউনিয়নে মোট ১০২টি অভিযোগ দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি মামলা গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তির জন্য গ্রহণ করা হয় এবং বাকি ৩টি মামলা উচ্চ আদালতে প্রেরণ করা হয়। দাখিলকৃত মামলাগুলোর মধ্যে ৯৩টি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে এসব মামলার সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ৮টি মামলা বাতিল হয়েছে এবং বর্তমানে মাত্র ২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এসব মামলার মাধ্যমে মোট ১৮ লাখ ৮০ হাজার ২০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আর্থিক ক্ষতি পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্থানীয়দের মতে, গ্রাম আদালতের কার্যকর ভূমিকার কারণে দীর্ঘদিনের বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে এবং সামাজিক সম্প্রীতিও বজায় থাকছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের “বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)” প্রকল্পের যশোর জেলা ব্যবস্থাপক অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায় ১৫ এপ্রিল মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, “মনোহরপুর ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং শতভাগ বাস্তবায়ন সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি অন্যান্য ইউনিয়নের জন্য একটি মডেল হতে পারে।”
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার ফারুক মিন্টু বলেন, “গ্রাম আদালত আমাদের ইউনিয়নের মানুষের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য বিচারব্যবস্থা হয়ে উঠেছে। অল্প সময় ও কম খরচে মানুষ তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারছে, ফলে গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকছে।”
মণিরামপুর উপজেলা সমন্বয়কারী রোকেয়া খাতুন জানান, “গ্রাম আদালতের কার্যক্রম এখন অনেক বেশি গতিশীল হয়েছে। বিশেষ করে নারী, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে এ সেবার আওতায় আনা হচ্ছে।”
স্থানীয় সেবাগ্রহীতারাও জানিয়েছেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তারা দ্রুত ন্যায়বিচার পাচ্ছেন এবং দীর্ঘদিনের বিরোধ সহজেই মিটছে। ফলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে আসছে এবং সময় ও অর্থ—দুইই সাশ্রয় হচ্ছে।
গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০২৪) এবং বিধিমালা ২০১৬ অনুযায়ী পরিচালিত এই বিচারব্যবস্থায় সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়। আইনজীবী ছাড়াই পক্ষগণ নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন, ফলে বিচারপ্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত এবং কম ব্যয়বহুল হয়।
সার্বিকভাবে মনোহরপুর ইউনিয়নের এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক বাস্তবায়ন, স্থানীয় নেতৃত্বের আন্তরিকতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে গ্রাম আদালত তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করতে পারে।
✍️ প্রতিবেদক:
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর

0 Comments