Ticker

6/recent/ticker-posts

দুইবার তেল নিতে এসে ধরা খেল চালক, ‘ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট’ অ্যাপে ধরা পড়ছে অনিয়ম

 👨‍🦱 ধারা টিভি নিউজ প্রতিবেদন

🔰প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ




রাজশাহীতে নতুন চালু হওয়া ‘ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট’ অ্যাপের মাধ্যমে একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়ছেন চালকরা। জেলা প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও অনিয়ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা পৌনে ৩টার দিকে নগরের বোসপাড়ার মেসার্স আফরিন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে লাইনে দাঁড়ানো এক মোটরসাইকেলচালককে অ্যাপে যাচাই করে দেখা যায়, তিনি আগের দিনই তেল নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ দিনের আগে আবার তেল নেওয়ার সুযোগ না থাকায় তাকে লাইন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর একইভাবে আরেক চালকও ধরা পড়েন, যিনি একই দিনে দ্বিতীয়বার তেল নিতে এসেছিলেন।

পাম্পসংশ্লিষ্টরা জানান, সকাল থেকেই এভাবে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন চালক ধরা পড়েছেন এবং কাউকেই তেল দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর লাইনে থাকা অনেকেই দ্রুত সরে যান।

গ্রাহক হয়রানি কমানো এবং জ্বালানি তেলের অনিয়ম রোধে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ‘ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি অ্যাপ চালু করেছে। রোববার (১২ এপ্রিল) নগরের কুমারপাড়ার গুল গফুর ফিলিং স্টেশনে এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সোমবার থেকে জেলার বিভিন্ন পাম্পে অ্যাপটির ব্যবহার শুরু হয়েছে।

অ্যাপটির মাধ্যমে গাড়ির নম্বরপ্লেট ইনপুট দিলে সহজেই জানা যাচ্ছে সর্বশেষ কবে, কখন এবং কতটুকু জ্বালানি নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় একজন মোটরসাইকেলচালক পাঁচ দিনে একবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার এবং প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসচালক সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার জ্বালানি নিতে পারবেন।

ফিলিং স্টেশনের পয়েন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সানি বলেন, “অ্যাপটি ব্যবহার সহজ এবং কার্যকর। একবার তেল নেওয়ার পর পাঁচ দিনের জন্য গাড়িটি ব্লক হয়ে যায়, ফলে একই ব্যক্তি বারবার তেল নিতে পারছেন না। এতে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।”

তিনি আরও জানান, স্ক্যানার সুবিধা এখনো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় নম্বর হাতে লিখে অ্যাপে দিতে হচ্ছে। স্ক্যানার চালু হলে কাজ আরও দ্রুত ও সহজ হবে।

এদিকে, নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তির দাবিও তুলেছেন অনেক গ্রাহক। মোটরসাইকেলচালক রাজু আহমেদ বলেন, “শুধু ফিরিয়ে দিলে হবে না, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।” আরেক চালক রাফি ইসলাম বলেন, “শাস্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে অনিয়ম কমবে।”

তবে কিছু পেশাজীবী এই নিয়মে সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন। গ্রামীণফোনের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত মো. জাহিদ বলেন, “প্রতিদিন দীর্ঘ পথ চলাচল করতে হয়। পাঁচ দিনে একবার তেল নেওয়ার নিয়ম আমাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে।”

এদিকে, সরেজমিনে দেখা গেছে কিছু মোটরসাইকেলের ট্যাংক উপচে তেল পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে, যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অন্যান্য চালকরা।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “তেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। নতুন অ্যাপ চালুর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে অনিয়ম শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।” তিনি জানান, নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে রাজশাহীতে এ ব্যবস্থা চালু থাকলেও ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে এটি আরও কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


✍️ প্রতিবেদক:

মোঃ গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

Post a Comment

0 Comments

📍 কার্যক্রম: বাংলাদেশ

ইমেইল: dharatvnews@gmail.com

হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৩৪৩২৫৮৯৮৮