👨🦱 ধারা টিভি নিউজ প্রতিবেদন
🔰 প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১০:০৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুদের আশ্বাস দেওয়ার পরদিনই লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত—এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের নীতি ও দায়বদ্ধতা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী মহল বলছে, এই ধরনের পরস্পরবিরোধী অবস্থান কেবল নীতিগত অসামঞ্জস্য নয়, বরং জনগণের সঙ্গে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার সম্পর্ককেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বাংলাদেশের কংগ্রেসম্যান জেমস আব্দুর রহিম রানা এক বিবৃতিতে সরকারের এই পদক্ষেপকে “জনগণের সঙ্গে নীতিগত অসততা” আখ্যা দিয়ে বলেন, “একদিন বলা হচ্ছে মজুদ পর্যাপ্ত, আর পরদিনই মূল্যবৃদ্ধি—এটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি ব্যর্থ নীতিনির্ধারণী কাঠামোর প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি সত্যিই পর্যাপ্ত মজুদের অবস্থানে থাকে, তাহলে এই মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর অযৌক্তিক চাপ ছাড়া কিছুই নয়। আর যদি বাস্তবতা ভিন্ন হয়ে থাকে, তাহলে পূর্বের বক্তব্য ছিল বিভ্রান্তিকর—দুই ক্ষেত্রেই সরকারের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।”
জেমস রানা অভিযোগ করেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, “এখানে হয় অদক্ষতা কাজ করছে, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করা হচ্ছে—দুটিই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক সংকেত।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি আগের কম দামে কেনা জ্বালানি মজুদ থাকে, তাহলে সেই তেলের ওপর নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি চাপানো কোন নৈতিকতা বা অর্থনৈতিক যুক্তিতে গ্রহণযোগ্য? “এটি কার্যত জনগণের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি কৌশল,”—বলেন তিনি।
তার মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িত কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “স্বচ্ছ ব্যাখ্যার অভাবই প্রমাণ করে—সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতার পরিবর্তে দায় এড়ানোর পথ বেছে নিচ্ছে।”
কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, “জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতারও চরম পরীক্ষায় ব্যর্থতা।”
সবশেষে জেমস আব্দুর রহিম রানা সরকারের প্রতি সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন—এই সিদ্ধান্তের দায় কে নেবে? তিনি জোর দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিচ্ছে এবং দায় স্বীকার করে কার্যকর পদক্ষেপ না নিচ্ছে, ততক্ষণ এই মূল্যবৃদ্ধি জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবেই গণ্য হবে এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হবে।

0 Comments